ইনফরমেশন টেকনোলজি

ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষায় যে কারণে রাশিয়ানদের আস্থা অর্জন করেছে টেলিগ্রাম

0
Read it in English গবেষক এবং প্রতিবেদক: শামা সুলতানা আয়শা মারিয়া

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর টেলিগ্রাম অ্যাপটি উভয় পক্ষের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতার ছবি ও ভিডিও সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে এবং শরণার্থীরা বিভিন্ন সহায়তা ও সেবার খোঁজখবর পাচ্ছে। এছাড়াও সামরিক কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাদের আপডেট এবং তথ্য প্রকাশ করেছেন।

টেলিগ্রাম ২০১৩ সালে দুই রাশিয়ান ভাই, নিকোলাই দুরভ এবং পাভেল দুরভ তৈরি করেন। টেলিগ্রামের উৎপত্তি রাশিয়ায় হলেও, টেলিগ্রাম এখন দুবাই থেকে পরিচালিত হয়। ডিফল্ট হিসেবে টেলিগ্রামের বার্তাগুলো সম্পূর্ণরূপে এনক্রিপ্ট করা হয় না, যার মানে কোম্পানি চাইলে বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে বা সরকারের অনুরোধে ডেটা হস্তান্তর করতে বাধ্য হতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকালীন রাশিয়ার মোবাইল অপারেটর মেগাফন এর তথ্য অনুসারে, রাশিয়ান সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলোর বেশ কয়েকটি সাইটের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্মগুলোর উপরও নজরদারি বাড়িয়েছে। তাই এই সময়ে টেলিগ্রাম হয়ে ওঠে  তাদের প্রধান পরিষেবা মাধ্যম।

টেলিগ্রাম হয়ে ওঠে তাদের প্রধান পরিষেবা মাধ্যম, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিরাপদে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

রাশিয়ায় ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম, ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী হোয়াটসঅ্যাপকে ট্র্যাফিক ভলিউমে ছাড়িয়ে গেছে । সে বছরই ভেদোমোস্তির ব্যবসায়িক দৈনিক এ বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রাশিয়ায় তৈরি এই মেসেঞ্জার সে বছর তার মেটা-মালিকানাধীন প্রতিযোগীর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়াও ২০২৩ এর শুরুতে টেলিগ্রাম রাশিয়ায় মোট ট্র্যাফিকের ৬০-৮০% এর জন্য দায়ী ছিল এবং এর পর থেকে  ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাশিয়ান সরকার ইতিমধ্যেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ করেছে এবং সম্প্রতি দেশটির একটি আদালত মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন সংস্থা) কে দেশে ‘উগ্রবাদী কার্যকলাপ’-এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। রাশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করেছে যে মেটা ‘রুশফোবিয়া’য় দৃষ্টিপাত করেনি যখন দেশটির সাথে ইউক্রেনের চলমান সংঘাত চলছে।

অন্যতম মেগাফনের বিবৃতি অনুসারে, অন্যান্য মেসেজিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর বিধিনিষেধের মধ্যে টেলিগ্রামের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো জানা যায়, ২০২৩ এর মার্চের দুই সপ্তাহে টেলিগ্রামের শেয়ার ৬৩ শতাংশ বেড়েছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

টেলিগ্রাম হয়ে ওঠে আরও জনপ্রিয়, ব্যবহারকারীদের মধ্যে এর নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে, হোয়াটসঅ্যাপের শেয়ার ৪৮ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশ এ নেমেছে। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গড়ে একজন টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ১০১ এমবি ডেটা ব্যবহার করেছেন, অন্যদিকে একজন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ২৬ এমবি ডেটা ব্যবহার করেছেন।

টেলিগ্রামে প্রায় সমস্ত প্রধান মিডিয়া, সরকারি সংস্থা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের নিজস্ব কনটেন্ট চ্যানেল পরিচালনা করে থাকেন। বিশেষত, ২০১৪ সালে শুরু হওয়া রুশ-ইউক্রেন সংঘাতের বেশ বড় ধরনের প্রভাবের ফলে, রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়। এই আগ্রাসনের ফলে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ইউক্রেনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক এই সংকট বিশ্বকে দুটি দলে বিভক্ত করে দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে বাজার ও ব্যবসাগুলোতে প্রভাব পড়ছে এবং প্রয়োজনীয় ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে।

“তথ্যসূত্র”

পুরো বিশ্বে গুজব ছড়ানোর শীর্ষে ভারত

Previous article

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জেমিনাই কি নিজে নিজে ভাষা রপ্ত করতে পারে?

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *